শ্রদ্ধা…

ছোটবেলা থেকেই আমি টিভির পোকা ছিলাম। যখন ছোট ছিলাম তখন স্কুল ছুটি হওয়ার সাথে সাথে ২:৪৫ মিনিটে বাসায় চলে আসতাম এবং সাথে সাথে টিভির সামনে বসে পড়তাম কোন কার্টুন বা বাংলা মুভি দেখার জন্য নয়। শুধু মাত্র বিটিভির থিম সং টা দেখার জন্য। খুব  দারুন* লাগতো তখন। পুরো দেশটাকে দেখাত, শেষে দেখাত স্মৃতিসৌধ ও পতাকা। আর একবার দেখতাম খবরের আগে, খবরের সবচেয়ে প্রধান আকর্ষণ ছিল আমার প্রথম পনেরো সেকেন্ডের টাইটেল মিউজিকটা। তখনও অবাক হয়ে দেখতাম সে পতাকা ও স্মৃতিসৌধটাকে।

ছোটকাল থেকে কতনা জল্পনা কল্পনা ছিল। পতাকা তো বুজি, কিন্তু এই পাশের লম্বা খাম্বাটা কি??
ছোটবেলায় কত কিছু দিয়ে পতাকা বানাতাম, কাগজ দিয়ে, রঙ দিয়ে, দেয়ালে, কলাপাতা দিয়ে, বইয়ের ৩য় পাতায় যে পতাকাটা থাকত তা কিন্তু আমার বইতে থাকত না। বই আনতে দেরি কিন্তু ছিড়ে আমার দরজায় লাগাতে দেরি ছিল না। আরও হরেক রকমের পন্থায় পতাকা বানাতাম, মাঝে মাঝে পতাকার পাশে স্মৃতিসৌধটাও বানাতাম লাঠি দিয়ে,, এটাকে সহজ মনে বলতাম পতাকার বড় ভাই, মাঝে মাঝে জামাইও বলতাম, কারন এটা পতাকার চেয়ে দেখতে অনেক বড় ছিল। এক কথায় অন্যরকম একটা ভালবাসা ছিল পতাকার প্রতি, আমি জানি সবারই ছিল, বা থাকার কথা।
কেনও জানি কোন অজানা কারনে এই মিষ্টি স্বভাব গুলো বয়সের সাথে সাথে হারিয়ে গেলো, যতই বয়স বাড়ে পতাকার প্রতি ভালোবাসা ততই আনুষ্ঠানিক হতে শুরু করে।
যেমন যাদের স্কুলে পিটির সময় যখন জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে বলা হত, তখন দেখা যাবে, একটা ক্লাস ১০ এর শিক্ষার্থীর চেয়ে একটা ক্লাস ৬ এর শিক্ষার্থীর আগ্রহ বেশী। কেন????

কারনটা আমার জানা নেই, কারন আমি নিজের নিজের দোষ নিজে ধরতে পারি না। কিন্তু অনুধাবন করতে পারি। আমাদের জাতীয় পতাকার প্রতি ভালবাসা এমনি আনুষ্ঠানিক হওয়া শুরু করেছে যে, জাতীয় কোন দিবস ছাড়া আমাদের কখনো জাতীয় পতাকার প্রতি ভালবাসা দেখাই না।
কিছুদিন থেকেই দেখতেছি ফেসবুকে একটা রিকোয়েস্ট দেখেছিলাম বারবার। ১০-১৬ ডিসেম্বর সবাই প্রোফাইল পিকচারে জাতীয় পতাকা রাখতে। প্রথমে চিন্তা করলাম ভালো উদ্দোগ, কিন্তু পরে দেখলাম, লাভ কি ৫ দিনের জন্য এমন ঠুনকো ভালোবাসা তো কোন দরকার নেই। প্রোফাইল পিকচারে জাতীয় পতাকা বছরে ৫ দিনের জন্য না রেখে অন্তত ৫ মাসের জন্য যদি মনের গভীরে পতাকাটার প্রতি ভালোবাসা ধারন করতাম, তাহলে মনে হয় কেউ আমাদের আরেকটা ফারাক্কা দিতে পারত না, বিদেশী কোম্পানি গুলা আমাদের খনিজ সম্পদ নিয়ে যেতে পারত না, তিস্তা নদীকে আমাদের নিজেদের চোখের সামনে হত্যা করতে পারত না, আমরা অনেকে ভাবী যে, আমাদের বিদেশী বন্ধুরা যদি এটা দেখে তাহলে মনে করবে, আমাদের দেশপ্রেম অনেক গভীর, কিন্তু বন্ধুরা মনে রাখবেন ওরাও মানুষ, আমাদের চেয়ে মনে হয় ওরা কম চালাক নয়।
যেহেতু আমি টিভির পোকা, শেষ করতে চাই টিভির একটা বিজ্ঞাপন চিত্রের কিছু কথা দিয়ে,
“মায়ের ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর নদী পাড়ি দিয়েছিলেন,
তা অনেক দিন আগে”

“মায়ের ভাষায় কথা বলার জন্য রাজপথ রক্তে লাল করেছে সেও অনেক দিন আগে”

“মাতৃভূমির স্বাধীনতার জনে জীবন দিয়েছে ৩০ লক্ষ মানুষ, সেও অনেক দিন আগে”

“মায়ের জন্যে, মায়ের ভাষার জন্যে, মাতৃভূমির জন্যে অনেক আগের মানুষেরা অনেক বেশি করেছেন”।

আমরা বর্তমানের, আসুন আমরা সামান্য কিছু করি, সামান্য…।।

“জীবন দিতে হবে না, রক্ত দিতে হবে না, প্রাণ দিতে হবে না।”

“””””””””””””””শুধু প্রতিজ্ঞা করি, “থাকব ন্যায়ের সাথে””””””””””””””

“”মানুষ বাঁচে আশায়, দেশ বাঁচে ভালোবাসায়।””
তাই আমারা আমাদের পরিপূর্ণ নিখাদ ভালোবাসা দিয়ে আমাদের দেশকে মাথা উঁচু করে বাচাতে পারি…
কিছুই লাগবে না শুধু স্কুল জীবনে প্রতিদিন সকালে করা শপথ তা মেনে আমরা মেনে চললেই হবে। ১৬ ডিসেম্বর সবার প্রোফাইল পিকচারে পতাকা এমনি আসবে, বার বার রিকোয়েস্ট করা লাগবে না।

Posted on ডিসেম্বর 31, 2011, in Uncategorized. Bookmark the permalink. Leave a Comment.

অনুগ্রহ করে মন্তব্য দিন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s