১৯৭৪ সাল একটি দুঃস্বপ্ন…

১৯৭৪ সাল, বাংলাদেশের ইতিহাসে দুঃসপ্নময় একটা বছর, এই বছরই বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর দুর্ভিক্ষ হয়েছিলো। আগস্ট মাসে শুরু হল বন্যা, দেশের দুর্ভিক্ষ চরম আকার ধারণ করে,১৯৭৪ সালের আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বরের পত্রিকার শিরোনামে আসতে থাকে বিভিন্ন জায়গায় মানুষগুলোর মৃত্যুর খবর। সে সময় সারা দেশের অবস্থা কেমন ছিল তা জানি না কারন আমি তো তখন ছিলাম ই না। বলছি শুধু আমার নিজের জেলা জামালপুরের কথা, কারন সেই দুর্ভিক্ষের নির্মম সাক্ষী আমার কিছু আপন জন। তাদের কাছেই শুনলাম তখনকার ঘটনা,

‘১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর স্বাধীন হওয়া জেলা জামালপুর। এই জেলার ৫০০০ জন মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে, এতে ৮১ জন মুক্তিযোদ্ধা শাহাদত বরণ করেন, শহীদ হন প্রায় ১৪০ জন এবং প্রায় ৫০০ জন নিরীহ লোককে গণহত্যার শিকার হতে হয়েছে। তাছাড়া ৩০০ জন মহিলাকে নির্যাতন করা হয়েছিল। আবার ১৯৭৪ সালে সেই জেলার প্রায়২০০০ জন মানুষ মারা যায় শুধু সেপ্টেম্বর,অক্টোবর মাসে শুধুমাত্র না খেয়েই, এর মধ্যে ৭০০ জন মারা গিয়েছিল কলেরায়, কলেরা হয়েছিলো সরকার থেকে দেওয়া পচা খাওয়ার অযোগ্য বিস্কিট খেয়ে, আমার আব্বু তখন স্কুলে পড়ত, স্কুল থেকে দেওয়া ৩ পিস বিস্কিট খেয়েই উনার দিন কাটত। আমার দাদার কিছু জায়গা ছিল, সবগুলোই বিক্রি করে করে দিতে হয়েছিলো প্রায় নাম মাত্র মূল্যে, শুধু খেয়ে বাচার জন্য, অন্য কোন চাহিদা ছিল না কারো তখন, খাবার নিয়ে কাড়াকাড়িতে কত জন যে খুন হয়েছে তার হিসাব নেই, একটা কাপড় ছিল তখন সবার, এটাকেই পালা করে পরত, ক্ষুদার জালা সহ্য করতে না পেরে, অনেকে করেছে আত্মহত্যা।

আমাদের আম্মুদের বাড়ি ছিল দেওয়ানগঞ্জে, সেখানে বন্যার পানি ছিল আরও প্রকট, আম্মু তখন প্রাইমারি স্কুলে পড়ত, দেখতেন যে স্কুলে স্কুলে বিদেশী কম্বল, দুধের টিন, থান থান কাপড়ের পাহাড় দেখা যাচ্ছে, কিন্তু সবার ভাগ্যে জুটত ২ গজ কাপড়, ৩ প্যাকেট বিস্কিট। কিছু মানুষকে দিয়ে বলতো ত্রাণ শেষ। আমার আম্মুরা দুই দিন না খেয়ে ছিল, দুই দিন পরে পুরো পরিবার কি ত্রাণ কি পেল জানেন ?? ৪ কেজি চাউল , ১টা লুঙ্গি। ভাত কি দিয়ে খেল জানেন? কচু পাতাকে সিদ্ধ করে খেলো।

ত্রাণের নামে এত গুলো বিদেশী সাহায্য কার পেটে গেলো জানেন?? বর্তমান ভূমি মন্ত্রী মোঃ রেজাউল করিম হীরা র পেটে। উনি তো মুক্তিযুদ্ধ করেন নি, মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করেছিলের তাও শুনিনি, কিন্তু খাবার না পেয়ে তখন জামালপুরের অনেক মুক্তিযোদ্ধা মারা গিয়েছেন না খেয়ে, তাদের মধ্যে সিদ্দিকুর রহমান (মুক্তিযোদ্ধার তালিকা) সপরিবারে আত্মহত্যা করেছিলেন। কি রকম দুর্নীতি করে সারা হাজার হাজার মানুষ মারল তখনকার সরকার দলীয় নেতারা। যখন সারা দেশের মানুষ না খেয়ে মারা যাচ্ছিল, তখনও কেউ কেউ নির্লজ্জের তার ৫৫ তম জন্মদিনে ৫৫ পাউন্ডের কেক কাটেন।””

এবার আসি বর্তমানে, এখন দেশে শীতকাল চলছে, দেশের দরিদ্র মানুষগুলো শীতে অনেক কষ্ট করছে, এই ব্লগটি যারা পড়বেন তাদের নুন্যতম তিন বা ততোধিক শীতের কাপড় অবশ্যই আছে, আসুন আমরা এবছর একটা পুরনো শীতের কাপড় দিয়ে একজন মানুষকে শীতের হাত থেকে বাচাই।

ভালো থাকবেন…

Posted on জানুয়ারি 3, 2012, in Uncategorized. Bookmark the permalink. ১ টি মন্তব্য.

  1. ho tokhonkar orajogotar kotha bollay apni *rajakar* hoya jaben

অনুগ্রহ করে মন্তব্য দিন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s