“আত্মসম্মানের ঝুলে থাকা”
গত বছরের এমনি এক দিনের এমনই এক সময়ে প্রথম ফেলানিকে চিনা, দেখলাম বিএসএফ নামে কিছু নরপশু তাকে মেরে কাঁটাতারের মধ্যে ঝুলিয়ে রেখেছিলো।
কিন্তু তার পর আমাদের সরকার এটার কোন প্রতিবাদই করল না, শুধু নামমাত্র পতাকা বৈঠক করে বন্ধুত্বটাকে পাকা পোক্ত করে। ঠিক আছে যারা মানুষ নামের অমানুষ তাদের কাছে সব মৃত্যুই সমান, কে মারল, কেন মরলো, কিভাবে মরল সেটার মূল্যায়ন প্রকৃতি করে না। কিন্তু আমরা যারা মানুষ, আমাদের নৈতিকতা, বিবেকের কাছে সব মৃত্যুই সমান নয়। কোনো কোনো মৃত্যুর কারণ ব্যক্তি, কোনো মৃত্যুর কারণ রাষ্ট্র। তেমনি ফেলানি রাষ্ট্রীয় হত্যার স্বীকার। তার বয়স এবং মৃত্যুর পরিস্থিতি পাথরের মতো ভারী হয়ে চেপে বসে আমাদের মনে। কতটুকুই বয়স হয়েছে তার, কতটুকুই বা দেখেছে জীবনটাকে।
যখন নরপশুগুলো ফেলানিকে হত্যা করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে দিল, মুমূর্ষু অবস্থায় জীবনের শেষ চাওয়া পানিটুকু চাইলো, তখন সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ তাঁর আরশে বসে কি ভাবছিলেন? মানুষ নামের অমানুষগুলোকে বানিয়ে তিনিও কি একটু থমকে গিয়েছিলেন ? না ফেলানিকে দিয়ে বাংলাদেশের মানুষগুলোকে আল্লাহ্ পরীক্ষা করছিলেন, আমরা কি সেই সূর্যসেন, তিতুমির, শরিয়তউল্ল্যাহর বংশধর হয়ে এখনো আছি নাকি আমাদের মাঝে জন্মেছে কাপুরুষতার বীজ, যে জাতি বাঘের মত গর্জন করে বিদেশীদের দেশ থেকে তাড়াতো তারাই এখন বাঘের মত গর্জনতো দুরের কথা, বিড়ালের মত মিনমিন করে নিজেদের অধিকার চাইতেও সাহস হয় না। আমরা ভুল করে কারো পা এর সাথে পা লাগলেও সরি বলি, এটাই ভদ্রতা, সৌজন্যতাবোধ । কিন্তু আমরা এমনই অভাগা দেশে বাস করি যে আমাদের কপালে সরি টুকুও নেই।
কিন্তু আর কতদিন, আমরা চুপ করে থাকবো, এখন সীমান্তে কিছুদিন পরে যে দেশে প্রবেশ করে যে মারবে না, তার নিশ্চয়তা কি? আর তার মধ্যে যে আমি আপনি পড়বো না, সেটাইবা কিভাবে ভাবি। দেশের জন্য না ভাবি, নিজের জন্য ভেবে হলেও আসুন প্রতিবাদ করি। সমবেত হই একসাথে। এই সমবেত হওয়াটাই হোক আমাদের শ্রেষ্ঠ প্রতিবাদ। আর দৃপ্তস্বরে জানিয়ে দিবো, রক্ত দিয়ে কেনা এই দেশ, এটা কারো দান করা দেশ নয় । বন্ধুত্বের দাম চুকাতে গিয়ে আমরা আর আমাদের আত্মসম্মান বিকিয়ে দেব না!
এতো গুলো মানুষকে বিনা কারনে মারার পরেও যদি তাও আমরা না পারি, শুধু এই টুকু বলি, “ফেলানি আমাদের তুমি ক্ষমা করো।।।।
Posted on জানুয়ারি 7, 2012, in Uncategorized. Bookmark the permalink. 2 টি মন্তব্য.





No Comments
sob kiso bolatay simaboddo