ফ্লোরাইড বিড়ম্বনা

“পেপসোডেন্ট”। ফ্লোরাইড সমৃদ্ধ টুথপেস্ট, যা দাঁতের মাড়িকে করে শক্ত, এবং নিঃশ্বাসে দেয় সজীবতা । এমনই কিছু বিজ্ঞাপন সারাদিনই দেখা হয় টিভি ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে। চিন্তা করে দেখেন বিজ্ঞাপন গুলো কেমন জ্ঞানী করে তুলছে আমাদেরকে, জীবনে প্রথম নাম শুনেছিলাম এই ফ্লোরাইডের। এটির কত কাজ, আমাদের দাঁত মজবুত করে সাথে মাড়িও।

ফ্লোরাইড সম্পর্কে এমন ধারনা মানুষের মাথায় ঢুকিছিলেন ১৯৩৮ সালে ড. এইচ ট্রেন্ডলি । তিনিই প্রথম বলেছিলেন খাবারের পানিতে ফ্লোরাইডের উপস্থিতি মানুষের দাঁতের ক্ষয় রোধ করে, এই মতবাদের সাথে সাথেই উন্নত বিশ্বগুলোতে ফ্লোরাইডযুক্ত পানি পান করা শুরু হতে থাকে। তার উপরে এই সুযোগে বিভিন্ন দাঁতের পেস্ট ও পাউডারের মধ্যে মিশাতে থাকে ফ্লোরাইড। অনেক বছর এটি চলতে থাকে। প্রায় ৪৫ বছর পর আমেরিকাতে একটি গবেষণায় আসতে থাকে ফ্লোরাইডের সুফলগুলো। আসুন সবাই একে একে পাঠ করি…।।

আমরা এখন জানি যে ফ্লোরাইড দাঁতের ক্ষয় রোধ করে, কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে যে, এটি দাঁতের ক্ষয় রোধে কোন ভুমিকাই রাখে না বরং এটির দ্বারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় দাঁত ও হাড়। অনেকদিন থেকে ফ্লোরাইড যুক্ত পেস্ট বা পাউডার ব্যাবহার করার ফলে দাঁতে ফ্লোরসিস দেখা যায়,এতে দাঁতের রঙ নষ্ট হয়ে যায়, দাঁতে কালো কালো ছোপ ছোপ দাগ পড়ে, এনামেল স্তর নষ্ট হয়ে যায়, জার ফলোশ্রুতিতে দাঁত ভঙ্গুর হয়ে যায়। এই ফ্লোরাইড দেহের ভিতরে গিয়ে দেহের সুপ্ত অ্যালুমিনিয়ামগুলোকে জাগিয়ে তুলে জার ফলে অ্যালযাইমার্ রোগ হয়। আর আপনার শরীরে ফ্লোরাইডের পরিমান বেড়ে গেলে রক্তবমি, বেহুঁশ হওয়া, বমি বমি ভাব লাগা, অগভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, পাকস্থলীর পেশিতে খিঁচুনি বা ব্যথা, কাঁপুনি, লালা নিঃসরণ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া, দুর্বলতা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ক্ষুধামন্দা, ত্বকে র‌্যাশ দেখা দেওয়া, মুখে অথবা ঠোঁটে ক্ষত বা অসাড়তা, ওজন কমা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

ফ্লোরাইড ডিবেট ওয়েবসাইট থেকে জানা গেলো যে, এই ফ্লোরাইডের ইতিহাস, ১৯৫০ সালের দিকে ফ্লোরাইড একটা গুরুত্বপূর্ণ শিল্পবর্জ্য ছিল। এটা সঠিক উপায়ে নিষ্কাশন করতে প্রচুর খরচ লাগে। তাই যেহেতু এটাকে বর্জ্যভূমিতে ফেলা যায় না তাই উপায় হল পানিতে ফেলা। শিল্পগুলো খুব কৌশলে ভাড়াটে বিজ্ঞানীদের সাহায্যে এটা করার জন্য পানিতে ফ্লোরাইড দেয়া জরুরী এমন নিয়ম প্রতিষ্ঠা করে ফেলে (১৯৫২)…. ফলশ্রুতিতে ওদের অনেক খরচ বেঁচে যায় কারণ ফ্লোরাইড নিষ্কাশনের বদলে খাওয়ার পানিতে মিশিয়ে দেয়া হতে লাগলো। তার হাত ধরে আসতে থাকে টুথপেস্টে। নব্বইয়ের দশকে উন্নত বিশ্বে ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট নিসিদ্ধ করে ছিল, কিন্তু তারপর এটি আসে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে।

কিন্তু এখন প্রশ্ন আসতে পারে, এতো ক্ষতিকর জেনেও বিভিন্ন কোম্পানিরা তাদের পন্নে ফ্লোরাইড ব্যাবহার করে কেনও? একটা বিজনেস ম্যাগাজিনে বলা হয়েছিল পুরো টুথপেস্ট জিনিস্তাই ভুয়া। এই ম্যাগাজিনটা দেখিয়েছিল কিভাবে কিভাবে একদম অপ্রয়োজনীয় একটা জিনিস দিয়ে কোটি কোটি ডলারের ব্যবসা করে কোম্পানীগুলো। একটু ভেবে বলুন তো আমরা টুথপেস্ট বা টুথপাউডার কেন কিনি? যেনও দাঁত পরিস্কার থাকে এবং কিছুক্ষন সুগন্ধের জন্য । টুথপেস্টের মূল উপাদান ক্যালসিয়াম গ্র্যানুলস, ক্যালসিয়াম থাকায় পেস্ট একটু রুক্ষ হয়, ফলে দাঁতের সাথে ঘর্ষনে মনে হয় দাঁত ঝকঝকে হয়ে গেছে। কিন্তু তারা দেখিয়েছিলো, শুধু ব্রাশ করলেই এটা হয়ে যায়, কোন টুথপেস্ট দরকার হয় না। সুতরাং এটি ১০০% অদরকারী জিনিস ।

তবুও মনের সেটিসফেক্সনের জন্যেও যদি টুথপেস্ট ব্যাবহার করতেই হয় তাহলে বাজারে অনেক গুলো টুথপেস্ট আছে যেগুলোর মধ্যে ফ্লোরাইড দেওয়া হয় না। আপনি যদি কোন ডেন্টিস্টের কাছে যান উনি কখনো আপনাকে ফ্লোরাইডযুক্ত পেস্ট ব্যাবহার করতে বলবেন না। কিন্তু অবাক লাগে এই বিষয়টাতে আমাদের বাংলাদেশ ডেন্টাল সোসাইটি তাদের অফিসিয়াল প্রোডাক্ট হিসেবে একটা ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট “পেপসোডেন্ট” কে নির্বাচিত করেছেন। তাই শেষ কথা এটাই টুথপেস্ট কিনার সময় ব্রান্ডের দিকে না তাকিয়ে তার পিছনের উপাদানের দিকে তাকিয়ে কিনুন।

Posted on জানুয়ারি 9, 2012, in Uncategorized. Bookmark the permalink. ১ টি মন্তব্য.

  1. sob sombober desh bangladesh

অনুগ্রহ করে মন্তব্য দিন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s